গোয়েন্দা সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই)-এর তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সেনাবাহিনী, পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে বড় ধরনের যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। প্রায় ৩০ ঘণ্টাব্যাপী এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং ২২ জনকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার ভোর সাড়ে ৫টা থেকে শুরু হয়ে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলা এই অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোট ৩ হাজার ১৮৩ জন সদস্য অংশ নেন। এ ছাড়া সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি (অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. আহসান হাবীব পলাশের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে উপস্থিত থেকে তদারকি করেন র্যাব-৭-এর সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান।
অভিযানে তিনটি হেলিকপ্টার, ১৫টি আর্মড পার্সোনেল ক্যারিয়ার (এপিসি), র্যাব ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের তিনটি ডগ স্কোয়াড এবং ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষ কৌশল প্রয়োগ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিতে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র (একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশি পিস্তল ও একটি এলজি), ২৭টি পাইপগান, ৩০টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ৫৭টি অস্ত্র তৈরির পাইপ, ৬১টি কার্তুজ, ১ হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি, ১১টি ককটেল (বিস্ফোরক) এবং পাইপগান তৈরির লেদ মেশিনসহ বিপুল অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ১৯টি সিসি ক্যামেরা, একটি থ্রিডি ডিভিআর, একটি পাওয়ার বক্স এবং দুটি বাইনোকুলার উদ্ধার করা হয়েছে, যা অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযানকালে আলীনগর এলাকার পাহাড়ে গড়ে তোলা সন্ত্রাসীদের আস্তানা, অস্ত্র তৈরির কারখানা এবং অপরাধ নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হয়। পাহাড়ের চূড়ায় স্থাপিত একাধিক ওয়াচ টাওয়ারও ভেঙে দেওয়া হয়েছে, যেগুলো থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হতো।
পুরো অভিযানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। উদ্ধার করা আলামত এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অভিযান শেষে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দুটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এসএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে জেলা পুলিশ ও এপিবিএনের ১৩০ জন সদস্য এবং আলীনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে রিজার্ভ ফোর্স, এপিবিএন ও র্যাব-৭-এর ২৩০ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, এই অভিযানের ফলে এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও যৌথ বাহিনীর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
