মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মুরুং জনগোষ্ঠী আবারও দুঃস্বপ্নের মতো বাস্তবতার মুখোমুখি। মংডু জেলার উত্তরাঞ্চলের অন্তত নয়টি গ্রাম—Don Nyo, Upper Inn Chaung, Tat Chaung, Byar Shweসহ আশপাশের এলাকাগুলো থেকে দেড় হাজার (১,৫০০) মুরুংকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মি (Arakan Army—AA) এবং তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো এই উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
একে শুধু গৃহচ্যুতি নয়, বরং রাখাইনে সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর ওপর আরাকান আর্মির ধারাবাহিক দমননীতির আরেকটি ভয়াবহ দৃষ্টান্ত বলে আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থাগুলো উল্লেখ করেছে।
আরাকান আর্মির দমন-নীতির ভয়ংকর চিত্র, চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ও ভয়ভীতি
আরাকান আর্মি ইতোমধ্যেই রোহিঙ্গা ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের চলাচলে “পরমিট সিস্টেম” চালু করেছে। মাত্র এক দিনের পারমিট না পেলে গ্রাম থেকে বেরোলেই গ্রেপ্তার, গুম বা নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে।
আরাকান আর্মি জোরপূর্বক শ্রম, বিপজ্জনক কাজে কিশোর-যুবকদের নিয়োগ এবং “মানব ঢাল”—হিসেবে ব্যবহার করছে।
এক তরুণ সাক্ষ্য দিয়েছে—অমানবিক আচরণের প্রতিবাদ করলেই মারধর করা হতো।
গ্রামবাসীর ঘরবাড়ি, জমি, পশুপাখি, খাদ্যসামগ্রী—সবই দখল করছে আরাকান আর্মি।
এমনকি কবরস্থান পর্যন্ত ধ্বংস করে গ্রামবাসীকে আতঙ্কে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে।
৪. বিচারবহির্ভূত আটক ও নির্যাতন
অভিযোগ রয়েছে—নির্দিষ্ট মামলা ছাড়াই আরাকান আর্মিরা মানুষকে আটক, মারধর ও মুক্তিপণ আদায় করছে।
এক ব্যক্তির দাবি—তার ছেলেকে জোরপূর্বক কাজে পাঠাতে না চাইলে তাকে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন করা হয়।
HRW বলছে—আরাকান আর্মির শাসনব্যবস্থা “ইনক্লুসিভ গভার্ন্যান্স” দাবি করলেও বাস্তবে রোহিঙ্গা ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতি নিপীড়নই প্রধান নীতি।
আরাকান আর্মির সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড ও ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ।
বেশ কিছু সূত্র বলছে—গ্রেফতার, মারধর, নিখোঁজ, নারী-পুরুষের ওপর হামলা এবং ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার মতো অপরাধ আরাকান আর্মি নিয়মিত করছে।
HRW-এর বিশ্লেষণ: রোহিঙ্গা ও অন্যান্য সংখ্যালঘুরা মিয়ানমার সেনা ও আরাকান আর্মি—উভয় পক্ষের সহিংসতার মধ্যে ফেঁসে আছে।
আরাকান তথা রাখাইনের অনেক এলাকায় আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের হার ভয়াবহভাবে বেড়েছে।
উচ্ছেদ হওয়া গ্রামগুলো কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আরাকান আর্মি সেখানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।
রোহিঙ্গাদের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ—
.জোরপূর্বক শ্রম
.সম্পত্তি দখল
.ভয়ভীতি
.দমন-পীড়ন—
এবার মুরুং জনগোষ্ঠীর ওপরও চাপিয়ে দিচ্ছে।
অনেক পরিবার নিরাপত্তার খোঁজে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ধেয়ে আসছে—যা সীমান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
১. আরাকান আর্মি বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগ জরুরি
আরাকান আর্মির নিপীড়ন বন্ধে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোকে আরও শক্ত অবস্থান নিতে হবে।
২. মাঠপর্যায়ের তদন্ত বাড়াতে হবে
মানবাধিকার সংস্থা, সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক গবেষকদের স্বতন্ত্র তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
৩. বাংলাদেশের প্রস্তুতি সীমান্ত সুরক্ষা বিশেষ প্রয়োজন
৪. আইনি পথে বিচার নিশ্চিত করতে হবে
